খাদ্যের বিশেষ উপাদান ও উপাদান সমূহের প্রধান উৎসঃ
খাদ্যের প্রধান উপাদান ২ টি –
- মুখ্য উপাদান।
- গৌণ উপাদান।
খাদ্যের বিশেষ উপাদান – ৬ টি।
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট।
- আমিষ বা প্রোটিন।
- স্নেহ পদার্থ বা লিপিড।
- খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন।
- খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণ।
- পানি অপর নাম- জীবন।
খাদ্যের কাজ – প্রধানত ৩ টি।
- খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে।
- খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে।
- খাদ্য রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল ও কর্মশক্তি প্রদান করে।
বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য উপাদানের উৎস ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কণিকাঃ
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এর উৎস
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এর প্রধান উৎস – ২ টি।
- উদ্ভিজ্জ উৎস।
- প্রাণীজ উৎস।
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এর উদ্ভিজ্জ উৎসঃ
- শ্বেতসার বা স্টার্চঃ ধান, গম, ভুট্টা,বিভিন্ন প্রকার শস্য দানা,আলু, রাঙা আলু, কচু ইত্যাদি।
- গ্লুকোজঃআঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর।
- ফ্রুক্টোজঃ আম, পেপে, কমলালেবু, ফুলের মধু, মিষ্টি ফল এবং একে fruit sugar বা ফল শর্করাও বলা হয়।
- সুক্রোজঃ আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি ইত্যাদি।
- সেলুলোজঃ শাকসবজি, বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল ইত্যাদি।
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এর প্রাণীজ উৎসঃ
- ল্যাকটোজ বা দুধঃ গরু, ছাগল, মায়ের বুকের দুধ ও অন্যান্য প্রাণীর দুধ।
- গ্লাইকুজেনঃ পশু পাখি জাতীয়- মুরগি, কবুতর ইত্যাদির পেশির মাংস ও যকৃত।
আমিষ বা প্রোটিন এর উৎস:
উৎস অনুসারে আমিষ বা প্রোটিন ২ প্রকার। যথা-
- (ক) প্রাণীজ উৎস এবং
- (খ) উদ্ভিজ্জ উৎস।
- প্রাণীজ উৎস : মাছ , মাংস , দুধ , ডিম , ছানা , পনির । ছন্দ : মামার পদু ডিম পারছে না ।
- উদ্ভিজ্জ উৎস : ডাল , শিমের বিচি , মটর শুটি , বাদাম।
স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এর উৎস:
উৎস অনুসারে স্নেহ পদার্থ বা লিপিড ২ প্রকার। যথা-
- (ক) প্রাণীজ স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং
- (খ) উদ্ভিজ্জ স্নেহ পদার্থ বা লিপিড।
- প্রাণীজ স্নেহ পদার্থ বা লিপিড উদাহরণ : চর্বিসহ মাংস, ঘি, মাখন, পনির, ডিমের কসুম।
- উদ্ভিজ্জ স্নেহ পদার্থ বা লিপিড উদাহরণ : সরিষা, সয়াবিন, তিল, তিসি, ভুট্টা, নারিকেল, সূর্যমুখী, পাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম।
খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন এর উৎস:
ভিটামিনকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা-
- চর্বির দ্রবণীয় ভিটামিন : ভিটামিন ‘এ’ ‘ডি’ ‘ই’ এবং ‘কে’ চর্বিতে দ্রবণীয়। এবং
- পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন : ভিটামিন ‘বি কমপ্লেক্স’ ও ভিটামিন ‘সি’ পনিতে দ্রবণীয়।
- ভিটামিন ‘এ’ এর উৎস : দুধ, মাখন, চর্বি ডিম, গাজর, আম কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদিতে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়।
- ভিটামিন ‘বি ’ এর উৎস : ইস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, যাঁতায় ভাঙ্গা আটা বা লাল আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদাম, শিমের বীচি, কলিজা বা যকৃত, হৃৎপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদিতে ভিটামিন “বি ’ থাকে।
- ভিটামিন ‘সি ‘ এর উৎস : পেয়ার, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি ,টমেটো, আানারস, আনারাস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি থেকে ভিটামিন ‘সি ‘ পাওয়া যায়।
- ভিটামিন ‘ডি ‘ এর উৎস : দুধ, ডিম , কলিাজ বাযকৃত, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্যতেল ইত্যাদিতে ভিটামিন ‘ডি ‘ থাকে।
- ভিটামিন ‘ই ‘ ও‘কে ‘ এর উৎস: উপরে উল্লেখিত সব খাবার থেকে ভিটামিন ‘ই ‘ ও ‘কে ‘ পাওয়া যায়।
খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণ এর উৎস
- ক্যালসিয়াম (উৎস): দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, মোলা-ঢেলা, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস।
- লৌহ (উৎস): কলিজা, সবুজ শাকসবজি, শাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস বা লৌহ পাওয়া যায়।
- সোডিয়াম (উৎস) : খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
- পটাসিয়াম (উৎস) : মাছ, মাংস বাদাম, ডাল, কলা, আলু, গাজর, আপেল ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে।
- ক্লোরিনের উৎস হলো মাছ, মাংস ও খাবার লবণ।
- আয়োডিনের উৎস হলো মাসুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা।
পানি অপর নাম- জীবন এর উৎসঃ
- পানির প্রাকৃতিক উৎস :নদ , নদি, খাল, বিল, সমুদ্র, ডাব, বিভিন্ন ফল ও গাছপালা ইত্যাদি।
- পানির মানুষের তৈরি উৎস : পুকুর , কুয়া , নলকূপ, পানির কল ইত্যাদি।
0 মন্তব্যসমূহ