এস এস সিতে ভালো রিজাল্ট করার ১০ টি উপায়
![]() |
| এস এস সি ব্যাচ |
এস এস সি পরীক্ষা নিয়ে পিতামাতা ও ছা্ত্রছাত্রী উভয়ের চিন্তার অন্ত নেই। চিন্তা ও উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চিন্তা যদি হয় দুঃচিন্তা তাহলে উভয়ের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর তাই পরিকল্পনা মাফিক চলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পরিকল্পনাগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে সামনের দিকে এগোতে হবে। তাহলেই কাঙ্খিত সাফল্য পাওয়া যাবে। যাইহোক নিচে ভালো রিজাল্ট করার ১০টি উপায় দেওয়া হলো।আশা করি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে ফলো করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
১.সময়পরিকল্পনা করাঃ
রুটিন করে পড়া ভালো ছাত্রছাত্রীর গুণাগুণ। পৃথিবীতে যারা সফল হয়েছেন প্রত্যেকেই তাদের সময়ানুবর্তিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এমন অনেক ছাত্রছাত্রী আছে যারা প্রতিদিন রুটিন করে ১০-১৬ ঘন্টা পড়াশোনা করে। রুটিনটা এমন হওয়া উচিত যাতে দিনের পড়া দিনেই রাতের পড়া রাতেই শেষ করতে হবে। এমন দৃঢ় মনোবল নিয়ে রুটিন করতে হবে। রুটিন আজ করি না কাল করি এরকম না ভেবে এখনই করব।
২.ছোট ছোট সমস্যা খুজে বের করে লিস্ট তৈরী করা
প্রথমে মনকে শান্ত করে ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে কোন বিষয়ে কোন সমস্যা আছে সেগুলোর তালিকা তৈরী করতে হবে। যদি সবই সমস্যা মনে হয় ভয় কিংবা হতাশ এবং কষ্ট না পেয়ে সমস্যাগুলো ছোট ছোট ভাগ করে নিতে হবে। এখন একটা, পরে একটা, আগামীকাল একটা, তারপর দুইটা এভাবে সমাধানের সংখা বাড়াতে হবে।
৩.লিস্ট দেখে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা
বিষয় অনুযায়ী সমস্যাগুলো খুজে বের করতে হবে।মনে রাখতে হবে সমস্যা আছে বলেই আমাকে পড়তে হবে। সমস্যা না থাকলেতো আর পড়ার দরকার ছিল না। সমস্যা বুজে পড়তে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে সমাধান করতে না পেরে অনেকে পড়াটাই বাদ দিয়ে দেয়। এটা মোটেই ঠিক না। কারন মানুষের মস্তিষ্ক পূনরাবৃত্তি মূলক কাজগুলো বেশি মনে রাখতে পারে। আমাদের মস্তিষ্কের স্বায়িত্বকাল মাত্র ০.১ সেকেন্ড। আর তাই একবার দুইবারে আয়ত্বে না আসাটাই স্বাভাবিক। যখন বার বার পূনারাবৃত্তি হবে তখন দেখা যাবে না জানা বিষয়টা আমার মস্তিষ্কে অজান্তেই গেথে গেছে ।
৪.বিগতসালের প্রশ্ন পর্যালোচনা করা
আমি যেই সালে পরীক্ষা দিচ্ছি সেই সালের পূর্ববর্তি কয়েক সালের কমপক্ষে ১০-১৫ টি পুরো প্রশ্ন সমাধানের চেষ্টা করা। প্রয়োজনে বড়দের বা শিক্ষকের শরনাপন্ন হওয়া। আর এজন্য বাজারে গাইডও পাওয়া যায় । বাজার থেকে ভালো মানের গাইড ক্রয় করা।
৫.মনে রাখার জন্য কিওয়ার্ড ব্যবহার করা
পড়া মনে রাখার জন্য প্রয়োজনে keyword ব্যবহার করা।যেমন- mgkcafe for nice chops : Mg for ম্যাগনেসিয়াম,K for পটাশিয়াম,Ca for ক্যালসিয়াম,Fe for আয়রন,Nice for নাইট্রোজেন,C for কার্বন,H for হাইড্রোজেন,O for অক্সিজেন, P for ফসফরাস, S for সালফার।
৬.বেশি বেশি নোট তৈরী করা
খুব ভালো হয় আলাদা বিষয়ের জন্য আলাদা নোট হলে। বিষয় ভিত্তিক নোট লিখলে সারাজিবন কাজে লাগবে। প্রতিটি টপিক অনুযায়ী বেসিক বিষয়গুলো নোট আকারে লিখে রাখতে হবে।
৭.গ্রুপ স্টাডি করা
গ্রুপ স্টাডি করলে কঠিন টপিকগুলো অনেক সহজেই আয়ত্ব করা যায়।
গ্রুপ স্টাডি করতে স্থান নির্বাচন অতীব জরুরী একটি বিষয়। গ্রুপ স্টাডির স্থান হবে বাসা বা লাইব্রেরী। আর গ্রুপ স্টাডির সদস্য হবে খুব বিশ্বস্ত। গ্রুপ স্টাডি হবে একজন শিক্ষক বা অভিভাবকের সামনে। আর তানাহলে গ্রুপ স্টাডির সুফল পাওয়ার বদলে অপকারই বেশি হতে পারে। তাছাড়া গ্রুপ স্টাডি করতে ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্লাটফর্ম যেমন facebook group,twitter group,whatsapp group ইত্যিাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে গ্রুপ স্টাডির যত গ্রুপ থাকবে সবই একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক বা অভিভাবক দ্বারা পর্যবেক্ষিত হবে।
৮.ভুল শুধরানোর চেষ্টা করা
গবেষকদের মতে কখনো কখনো ভুল করা ভালো। কিন্তু ভুল করতে কেউ পছন্দ করে না। অনেকে বিব্রতবোধ করেন। তবে সত্যিটা হলো ভুল থেকেই মানুষ বেশি শিখতে পারে। যখন যেখানে ভুল হবে সাথে সাথে শুধরানোর চেষ্টা করতে হবে। আর ভুল করা টপিক গুলো বেশিই মনে থাকবে ।
৯.মনকে নিজের আয়ত্বে রাখার চেষ্টা করা
মনকে নিজের আয়ত্বে রাখার জন্য চেষ্টা করতে হবে। মনকে নিজের আয়ত্বে রাখার বেশ কিছু এক্সারসাইজ আছে সেইগুলো করতে হবে। এজন্য যোগব্যায়াম যথেষ্ট ভালো কাজ করে । মনকে নিজের আয়ত্বে রাখালে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও নিজের আয়ত্বে রাখা সম্ভব হয়।
১০.নিজেকে প্রাধাণ্য দেওয়া
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে নিজেকে প্রাধাণ্য দেওয়া। কারণ নিজের কথা যখন ভাবতে পারবে তখন নিজের উন্নতির ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থাকবে। নিজেকে সুস্থ,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন,পরিপাটি,গোছানো রাখার চেষ্টা করতে হবে। আর তবেই আমাদের জিবনটা গোছানো থাকবে।

0 মন্তব্যসমূহ